বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

সেতু নিয়ে আমার জবানবন্দি

আপনারা জানেন, আমি পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি পর্যায়ে যোগাযোগমন্ত্রী ছিলাম। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং অপমানের তীর সরাসরি আমাকে আঘাত করেছিল। আমার কাজকে বিতর্কিত এবং আমার আন্তরিকতা ও সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল। অবশ্য পরবর্তীকালে দুদকের তদন্ত ও কানাডার আদালতের রায়ে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই। ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র ও অপবাদ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আসলে ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য ছিল পদ্মা সেতুর নির্মাণ বিলম্বিত করা। দেশের মানুষের আকাক্সক্ষাকে বিনষ্ট করা এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করেই সরকারের সততা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তুতিপর্বে সরকার এবং যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে আমার যে কোনো অনিয়ম ছিল না তাও তিনি প্রমাণ করেছেন। পদ্মা সেতুর এ সাফল্য এককভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও ভিত্তিহীন অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত করে আজ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। এই সেতু দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রাক্কালে তাই আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

আমার বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল সেসব ছিল ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যমূলক ও সম্পূর্ণ অসত্য। আপনারা জানেন, দুই বছরে আমি পদ্মা সেতুর প্রস্তুতি কাজ শেষ করে এনেছিলাম। ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনসহ যাবতীয় আনুষঙ্গিক কাজ এবং মূল সেতুর দরদাতা প্রাক-যোগ্য নির্বাচন যথানিয়মে, বিশ্বব্যাংকের অনুমোদনে এগিয়ে এনেছিলাম। নিজস্ব অর্থায়নে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজে দাতাসহ সব মহল সন্তুষ্ট ছিল। শুধু মূল সেতুর প্রাক-যোগ্য দরদাতা নির্বাচনে বিশ্বব্যাংকের একটি তদবির অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি কার্যকর করতে অপারগতা প্রকাশ করার পরই বিশ্বব্যাংকের ধীরগতি পরিলক্ষিত হয় এবং আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

বিশ্বব্যাংক টিইসি নির্বাচিত ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে প্রাক-যোগ্য দরদাতা China Constructioin Communication Company (CCCC)-কে বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্তির কারণে বাদ দিতে বলে এবং একটি প্রাক-যোগ্যতায় অযোগ্য দরদাতা Construction Company (CRCC)-কে Qualify করতে বলে। কারিগরি কমিটি প্রাক-যোগ্য কোয়ালিফাইড দরদাতাকে বিশ্বব্যাংকের তালিকাভুক্তির কারণে বাদ দেয়। কিন্তু প্রাক-যোগ্য ডিসকোয়ালিফাইড দরদাতাকে অভিজ্ঞতার জাল সার্টিফিকেট দেওয়ায় কোয়ালিফাই করতে অস্বীকৃতি জানায়। ডিসকোয়ালিফাইড দরদাতাকে কোয়ালিফাই করার জন্য বিশ্বব্যাংক একাধিকবার তদবির করে। কিন্তু টিইসি তাকে যোগ্য করতে শেষাবধি অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীকালে বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়ার আশঙ্কায় ঈজঈঈ দরপত্র প্রত্যাহার করে নেয় এবং ঈজঈঈ-কে যোগ্য করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই বিশ্বব্যাংক এবং ঈজঈঈ এর স্থানীয় প্রতিনিধি আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করতে থাকে এবং স্থানীয় মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে একটি অশুভ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com